ভালবাসায় কষ্ট না পেলে আসলেই বোঝা যায় না
![]() |
| ভালবাসায় কষ্ট না পেলে আসলেই বোঝা যায় না |
ভালবাসায় কষ্ট না পেলে আসলেই বোঝা যায় না, ভালবাসার অনুভূতি, অনুভব,আবেগ, উপলব্ধি, মায়া, টান, সম্মান, ভক্তি, শ্রদ্ধা তাঁর প্রতি কতটুকু আকর্ষণীয় ছিলাম তা বোঝা যায় না।
ধরেন, সকালে নাস্তা করতে বসলাম, যেই খাবার মুখে দিতে গেলাম, হঠাৎ করেই তাঁর কথা মনে পড়ে গেল। সে এখনো খেয়েছে কিনা! কারণ খাবার খাওয়ার আগে বলতো খেয়েছো কিনা, কখন খাবে? তখন খেতে গিয়েও খাবার গলা দিয়ে নামে না।
খুবই কষ্টে অতি কষ্টে অল্প খেয়ে, হাত ধুয়ে ফেলি। তখন আম্মু বলে, কি রে , খেলি না যে! তুই তো এতো অল্প কখনোই খাস না! কি হল আবার?
কিছু হয়নি আমার, খেতে মন চাইছে না। ক্ষিদে নেই আমার। তুমি খাও। ঝাঁপসা চোখে বলতে হয়।
সারাদিন কর্ম ব্যস্ততায় হয়তো, তেমন একটা মনে পড়ে না তাঁর কথা। বন্ধুদের সাথে থাকলে সময় কেটে যায়।
আবার, কেউ যদি জানতে চায় তোর ভালবাসার মানুষের খবর কি? তখন অল্প কথাই উত্তর" ভাল"।
হঠাৎ মনে পড়ে যায় তাঁর কথা, সাথে চোখ নিজের অজান্তেই ছল ছল করে উঠে। কাউকে কিছুই বলা যায় না, সহ্য করাও কঠিন হয়ে যায়।
দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় একিই অবস্থা। যাই হোক, খেয়ে বিছানায় শুয়ে, ফেসবুকে ঢুকলে, আগে দেখি, তাঁর কোন মেসেজ আসছে কিনা? বা সে কতক্ষণ অন লাইনে ছিল? সে অন্য কারো সাথে কথা বলছে কিনা?
কোন মেসেজ না আসলেও, মনে হয় একটা মেসেজ দেই, দিতে গিয়েও দেওয়া হয় না, কিসের জন্য তা জানি না। হয়তো, তাঁর প্রোফাইলে একটু ঘুরে আসি, তাঁকে এক নজরে দেখার জন্য। একটু পর পর মোবাইল চেক করা হয়, কোন মেসেজ আসছে কিনা! বা তাঁর ফোন আসছে কিনা? যখন সবই বিপরীত হয়, মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। দিনটাই মাটি হয়ে যায়।
সারাদিন, যেভাবেই হোক যায়, কিন্তু রাতের সময়, যখন সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে, যে যার মত ঘুমাতে চলে গেল। তখন নিজেও নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে, অন্ধকার ঘরে একা একা, তাঁর কথা গুলো খুবই মনে পড়তে থাকে। কিছু কিছু কথা, আছে যা অন্তরে গেঁথে থাকে, বার বার শুনতে মন চায়। তখন ঐ কথা গুলো খুবই কষ্ট দেয়। সারাদিন কর্ম ব্যস্ততায় যেটুকু তাঁর কথা মনে না পড়ে, রাতে আরো অনেক বেশি তাঁর স্মৃতি মনের মাঝে ডালপালা ছড়ায়। তাঁর মিষ্টি মিষ্টি কথা, মান অভিমান, আদর সোহাগ বা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে লেপ্টে থাকার কথা খুবই মনে পড়ে। কষ্টের চোটে, হৃদয় ফাটে, রক্তক্ষরণ হয়, কেউ জানে না, বুঝতে পারে না, শুধু নিজেই বুঝতে পারে। কেউ কেউ হয়তো, বোবা কান্না করে, কানের লতি বেয়ে বালিশ ভিজিয়ে, ঠান্ডা লাগিয়ে ফেলে।
আবার কেউ কেউ, নিরবে না কেঁদে, চিৎকার করে কেঁদে উঠে, চিৎকারের কান্নার শব্দ যেন কেউ শুনতে না পায়, সে জন্য নিজের বালিশ চাপা দিয়ে, অতি কষ্টে চিৎকারের শব্দ বন্ধ করে। পাশে পড়ে থাকা কোলবালিশটাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে থাকে আর তাঁর কথা মনে করতে থাকে। এভাবেই কখন ফজরের আজান শোনা যায়, বোঝা যায় না।
তখন মনে মনে ভাবে, সেও কি আমার মত করছে? না নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে?
বিশ্বাস করতে বড়ই অদ্ভুত কষ্ট হয়।
হবে বা কি করে!
বিশ্বাসটাই যে আজ মন থেকে উঠে গেছে।
